আগুনে বোলিং বাংলার মুকেশ-আকাশের, লক্ষ্মীর কোচিংয়ে ইরানি কাপ জিতল পন্থের অবশিষ্ট ভারত


ইরানি কাপে চ্যাম্পিয়ন হল অবশিষ্ট ভারত। গত মরশুমের রনজি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন জম্মু ও কাশ্মীরকে তাদের ঘরের মাঠেই বড় ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি জিতল ঋষভ পন্থের দল। অবশিষ্ট ভারতের এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা বাংলার দুই পেসার মুকেশ কুমার এবং আকাশ দীপের। তাঁদের আগুনে বোলিংয়ের পাশাপাশি দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক লক্ষ্মীরতন শুক্লা।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য অবশিষ্ট ভারতের ব্যাটিং খুব একটা স্বস্তি দেয়নি। প্রথম ইনিংসে তারা মাত্র ২৩৭ রানেই গুটিয়ে যায়। দলের অধিনায়ক ঋষভ পন্থ যেমন ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন, তেমনই রান পাননি বাংলার সুদীপ কুমার ঘরামিও। ফলে প্রথম ইনিংসেই কিছুটা চাপে পড়ে যায় অবশিষ্ট ভারত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে জম্মু ও কাশ্মীর ২৭৮ রান তোলে। দলের অধিনায়ক পরশ ডোগরা গুরুত্বপূর্ণ ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন। ফলে প্রথম ইনিংসের হিসেবে ৪১ রানের লিড নিয়ে নেয় গত মরশুমের রনজি চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অবশিষ্ট ভারতের বোলাররা। বাংলার দুই পেসার মুকেশ কুমার এবং আকাশ দীপ বিশেষভাবে নজর কাড়েন। মুকেশ পান দু’টি উইকেট, আর আকাশ দীপের ঝুলিতে আসে তিনটি উইকেট।
পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ঘুরে দাঁড়ায় অবশিষ্ট ভারত। দলের হয়ে দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন রবিচন্দ্রন স্মরণ। তাঁর ১৩৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস দলকে বড় রানের জায়গায় পৌঁছে দেয়। তাঁর ব্যাটের উপর ভর করেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৯ রান তোলে অবশিষ্ট ভারত। ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের সামনে জয়ের জন্য বড় লক্ষ্য দাঁড়িয়ে যায়।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে এই ম্যাচটি ঋষভ পন্থের জন্য একেবারেই মনে রাখার মতো নয়। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলালেও দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন তিনি। একই ভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি সরফরাজ খানও। কিন্তু কয়েক জন ব্যাটারের ব্যর্থতা দলকে শেষ পর্যন্ত সমস্যায় ফেলতে পারেনি। বোলারদের দাপট এবং রবিচন্দ্রন স্মরণের দুরন্ত শতরানের সৌজন্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে অবশিষ্ট ভারতের হাতে।
বিশেষ করে বাংলার মুকেশ কুমার এবং আকাশ দীপের পারফরম্যান্স আলাদা করে প্রশংসা পাওয়ার মতো। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটিং লাইন-আপে চাপ তৈরি করেন তাঁরা। বাংলার আর এক প্রাক্তন তারকা লক্ষ্মীরতন শুক্লার কোচিংয়েও দলের পরিকল্পনায় তার ছাপ দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে রনজি চ্যাম্পিয়ন জম্মু ও কাশ্মীরকে হারিয়ে ইরানি কাপ নিজেদের দখলে রাখল অবশিষ্ট ভারত।

Post a Comment

Previous Post Next Post