কী ভাবে আগুন লেগেছিল বাইরনের ঘরে? জল্পনা উড়িয়ে এ বার ‘স্পষ্ট’ করলেন তাঁর মেজো ভাই


ধুলিয়ানে নিজের গেস্ট হাউসের ঘরে আগুন লেগে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তাঁর শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। বর্তমানে মুর্শিদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। তবে আগুন কী ভাবে লাগল, তা নিয়ে ঘটনার পর থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই জল্পনার মধ্যেই এ বার মুখ খুললেন বাইরনের মেজো ভাই মিল্টন বিশ্বাস। তাঁর দাবি, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এসি-তে বিস্ফোরণ এবং সেখান থেকেই ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পুলিশ ও দমকলের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ ধুলিয়ানে বাইরনের নিজের মালিকানাধীন গেস্ট হাউসের দোতলার একটি ঘরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেই সময় ঘরেই ঘুমোচ্ছিলেন বিধায়ক। আচমকাই ঘরের ইন্ডোর এসি ইউনিটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় বলে দাবি পরিবারের। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের ভিতরে।
বাইরনের মেজো ভাই মিল্টন বিশ্বাসের কথায়, ‘‘দোতলার ঘরে দাদা ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময়ে কোনও ভাবে শর্ট সার্কিট থেকে ইন্ডোর এসি ইউনিটে বিকট বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় এসি থেকে ঘরের ভিতর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দাদা নিজের হাতে আগুন নেভাতে যান। আগুন নেভাতে গিয়েই তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।’’
তবে পরিবারের তরফে এই বক্তব্য জানানো হলেও সরকারি ভাবে এখনও আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ এবং দমকলের তদন্ত চলছে। কী কারণে এসি ইউনিটে বিস্ফোরণ হয়েছিল, বৈদ্যুতিক লাইনে কোনও সমস্যা ছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে আগুনের সূত্রপাত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সময় বাইরনের দুই ভাইই এলাকায় ছিলেন না বলে জানিয়েছেন মিল্টন। তাঁর কথায়, তাঁরা ব্যবসার কাজে এলাকার বাইরে ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ধুলিয়ানে ফিরে আসেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছনোর আগেই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে হাত লাগান বলে জানা গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে বাইরনের শরীরের বেশ কিছু অংশ গুরুতর ভাবে পুড়ে গিয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’টি পায়ের হাঁটুর নীচের অংশ এবং একটি হাতের কব্জি পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। ওই হাসপাতালে পৃথক বার্ন ইউনিট না থাকলেও চিকিৎসকদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বিধায়ককে।
বাইরনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে মিল্টন জানিয়েছেন, আপাতত তাঁর দাদা কিছুটা সুস্থ রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে আরও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হতে পারে। মিল্টনের কথায়, ‘‘চিকিৎসা চলছে, দাদা এখন কিছুটা সুস্থ। পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন মনে হলে আগামী কাল বা পরশুর মধ্যে দাদাকে স্থানান্তরিত করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা রয়েছে।’’
অন্য দিকে, আগুন লাগার পর বাইরনকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে খবর ছড়িয়েছিল। সেই অনুযায়ী হাসপাতালের তরফেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের সুপার অনিন্দ্য গোস্বামী জানিয়েছিলেন, বেলা ১২টা নাগাদ বাইরনের পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালে যোগাযোগ করে তাঁকে নিয়ে আসার কথা জানানো হয়। সেই মতো বার্নিং ট্রিটমেন্টের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল।
অনিন্দ্য বলেন, ‘‘বেলা ১২টা নাগাদ বাইরন বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তাঁকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেইমতো আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বার্নিং ট্রিটমেন্টের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু উনি আসেননি।’’
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালেই বাইরনের চিকিৎসা শুরু হয়। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ও দমকলের তদন্তও চলছে। পরিবারের তরফে শর্ট সার্কিটের কথা বলা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটিই যে অগ্নিকাণ্ডের নিশ্চিত কারণ, তা বলা যাচ্ছে না।

Post a Comment

Previous Post Next Post